কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ১৮৪টি সভা আয়োজন করা হয় এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন পে স্কেলে প্রাথমিক শিক্ষকরাও উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির সুফল পেতে পারেন। বর্তমানে যারা ১৩তম গ্রেডে আছেন, তাদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২৪ হাজার টাকা হতে পারে। অন্যান্য গ্রেডের শিক্ষকরাও নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী বাড়তি সুবিধা পাবেন।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি টিফিন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য ২০টি গ্রেডের বাইরে একটি বিশেষ ধাপ তৈরির প্রস্তাবও প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ২০২৫ সালে ২৩ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর নতুন এই কমিশন গঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং বরাদ্দ বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে কমিশন তাদের কাজ শেষ করেছে।
প্রতিবেদন গ্রহণের সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা। সে লক্ষ্যে শিগগিরই একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
মন্তব্য করুন