বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব বাতিল করায় এক দিনের জন্য হলেও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল–এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মমাসুম বিল্লাহ বলেন, গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রকার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, “বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, তখন তিনিও এই সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু উপদেষ্টা হওয়ার পর তিনি হঠাৎ করেই এটি প্রয়োজন নেই বলে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণেই আমরা তার পদত্যাগ চাইছি। সেটা যদি এক দিনের জন্যও হয়, তবুও।”
এ কে এম মমাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দুটি রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তারা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন করে—এটাই তাদের দাবি।
তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবাদ সভায় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং আইনি কাঠামো সুসংহত করার লক্ষ্যে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অথচ আর্থিক খাতের সংস্কার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন অধ্যাদেশ প্রণয়ন না হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন