টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে এবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া। তিনি মনে করেন, আইসিসি নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপে অংশ নিতে সম্মতি দেবে। তার মতে, এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা কাজ করছে।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে আকাশ চোপড়া বিসিবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“বাংলাদেশ, আপনাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। আইসিসি তৃতীয় পক্ষ দিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেছে যে সেখানে কোনো ঝুঁকি নেই। এখন যদি আপনারা না যান, তাহলে আপনাদের জায়গায় অন্য কাউকে নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ না খেললে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে স্কটল্যান্ড। আকাশ চোপড়া বলেন,
“আপনাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড সুযোগ পেতে পারে। যাদের হারিয়ে ইতালি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিল, সেই স্কটল্যান্ডের ভাগ্য খুলে যেতে পারে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের সমস্যার কারণে একইভাবে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল।
বাংলাদেশ কেন শেষ পর্যন্ত খেলতে বাধ্য হবে—এর ব্যাখ্যায় আকাশ চোপড়া বড় অঙ্কের আর্থিক বিষয় সামনে আনেন। তিনি বলেন,
“এর পেছনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ব্যাপার জড়িত। আইসিসির আয়ের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কাছে যায়।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,
“একবার মৌখিক বা লিখিত সম্মতি দেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে আইসিসি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এর দায়ভার পুরোপুরি বাংলাদেশের ওপর পড়বে এবং ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।”
আকাশ চোপড়ার বিশ্বাস, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিসিবি তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসবে। তার ভাষায়,
“আমার মনে হয়, ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ জানাবে যে তারা বিশ্বকাপ খেলতে আসছে।”
এদিকে, ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না—এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলা বা না খেলার বিষয়সহ চলমান বিশ্বকাপ সংকট নিয়ে খেলোয়াড়দের মতামত শোনা হবে।