শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীতে দৈনিক প্রথম আলো-এর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান। তিনি এ ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেছেন, হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার মধ্যে কোনো ‘যদি বা কিন্তু’ নেই।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ফাওজুল কবীর খান লেখেন, “অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদপত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোন যদি, বা কিন্তু নাই।”
তিনি বলেন, প্রথম আলো আক্রান্ত হওয়া দুঃখজনক হলেও বিশ্বে এমন ঘটনা বিরল নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে United States Capitol ভবনে হামলার প্রসঙ্গ টানেন। তবে সংবাদপত্রের কার্যালয় রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে তিনি ‘অমার্জনীয়’ বলে মন্তব্য করেন।
ফাওজুল কবীর খান বলেন, কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপ করে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “আমাদের সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর চিন্তা হলো—‘কেবল আমিই ঠিক এবং অন্যরা আমাদের প্রতিপক্ষ’। এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শুরু করতে হবে সংলাপ সব বিরুদ্ধবাদীদের সাথে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে ইসলামপন্থী বা উগ্রবাদীদের ওপর নৃশংসতা চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রগতিশীলদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিক শফিক রহমানের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, অতীতে অন্য সংবাদমাধ্যমে হামলার প্রতিবাদ হলে হয়তো প্রথম আলো আক্রান্ত হতো না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি আবারও প্রথম আলোয় অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানান এবং এটি প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে একদল হামলাকারী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা শাটার ও কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
একই সময়ে ইংরেজি দৈনিক The Daily Star ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-এর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফাওজুল কবীর খান।
মন্তব্য করুন