তারেক রহমান বলেন, পড়ালেখাকে শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে। শিক্ষা যেন কঠিন না হয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় হয়, সে দিকে নজর দিতে হবে। শুধু বইনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার অংশ করা হবে। খেলাধুলাতেও পাশ করতে হবে—এমন ব্যবস্থা থাকবে। এতে শিশুদের অতিরিক্ত ইন্টারনেট নির্ভরতা কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘মব কালচার’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে তুলতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে বিএনপির আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের অনেক সামাজিক প্রকল্প থাকলেও সেগুলো সঠিকভাবে সংগঠিত নয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এসব সুবিধা এক জায়গায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বাড়াতে হবে। উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীরা থাকা স্বাভাবিক, তবে কেউ অনৈতিকভাবে মুনাফা করতে চাইলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেও অনেক সময় পণ্যের দাম বেড়ে যায়—এ বিষয়েও নজর দেওয়া হবে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্নীতি দমন করতে হবে। এই দুটি বিষয় ঠিক করা গেলে দেশের অন্যান্য সমস্যাও ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোড ডিজাইন, গণপরিবহন ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান—সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় ট্রাফিক সমস্যা বেড়েছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ সুবিধা থাকবে। এ নিয়ে বিএনপি কাজ করছে।
মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং জায়গা বেশি নেয়। বিকল্প হিসেবে মনোরেল হতে পারে কার্যকর সমাধান। ছোট বগির মনোরেল সহজেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সংযুক্ত করা সম্ভব।
প্রবাসী কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক তরুণ অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসীরা যদি বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠান, তবে তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন