ইশতেহারের প্রথম দফায় গ্যাস সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা ও জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ডা. জারা বলেন, গ্যাস না পেলেও বিল দিতে হওয়া এক ধরনের প্রতারণা। তিনি ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতিতে আইন প্রস্তাবের কথা জানান এবং এলপিজি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও রাস্তা কাটলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতার কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শয্যা ও জনবল সংকটকে অমানবিক উল্লেখ করে হাসপাতালকে আদর্শ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলা, সারা বছরব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীস্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. তাসনিম জারা বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের কারণে অনেক এলাকায় নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না। এ জন্য সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নারীবান্ধব পরিবহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
শিক্ষা খাতে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তন ও ভর্তি বাণিজ্যের সমালোচনা করে তিনি জানান, এমপির কোনো কোটা থাকবে না। স্কুলে আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও এআই শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম সক্রিয় করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অর্থনীতি ও জীবিকার বিষয়ে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড, কর্মজীবী মায়েদের জন্য কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষার কথা বলেন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
সবশেষ দফায় এমপির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয়, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং কোনো প্রটোকল ছাড়াই জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, তার ইশতেহার কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি চুক্তি। একজন চিকিৎসক হিসেবে সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান দিতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন।
মন্তব্য করুন