শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তিও তোলে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রিত করে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনতাত্ত্বিক বিবরণ ও গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত তারা ভোটাধিকার ভোগ করেছে। পদ্ধতিগতভাবে ‘বাঙালি’ বলা তাদের নিজস্ব পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরির শামিল।
বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি মিয়ানমার। এই নিষ্ক্রিয়তাকে রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের উদ্দেশ্য হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।
এ ছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও তথ্যপ্রমাণহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন