সূত্র মতে, চলতি বছরের শুরুতেই উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের অভিপ্রায় জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তারা সচিবালয়ে অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন জমা দেন। কয়েকটি আবেদন ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হলেও আরও কিছু আবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল বা সমর্পণের অভিপ্রায় জানানো উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তবে এ তালিকায় আরও নাম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে সর্বপ্রথম আদিলুর রহমান খান গত ২৫ জানুয়ারি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণের অভিপ্রায় জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। একই দিনে তিনি সচিবালয়ের পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। ওই দিনই তিনি নতুন সাধারণ পাসপোর্ট হাতে পান।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাল রঙের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু, বাতিল বা সমর্পণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট রূপান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়।
তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ২১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের সংশোধনীতে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকার কারণে যারা এবং তাদের জীবনসঙ্গীরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের কঠোর নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণের পর সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসা ও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টাদের এ উদ্যোগ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন