নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যেই পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়েছেন গাজা উপত্যকা-র বাসিন্দারা। দীর্ঘ সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পরও ক্যাম্পগুলোতে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ তৈরির চেষ্টা।
রমজান উপলক্ষে উপত্যকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষজন তাঁবুতে রঙিন ছবি এঁকেছেন। অনেকেই জীর্ণ ঘরের ছাদে রঙিন কাগজ ও ছোট ছোট বাতি ঝুলিয়েছেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করছেন অভিভাবকেরা।
দুই সন্তানের মা মাইসুন তার নয় বছর বয়সী ছেলে হাসানকে বলেন, “আমরা তোমার জন্য সাজসজ্জা ও ছোট একটি লণ্ঠন এনেছি।” তিনি Al Jazeera-কে বলেন, “আমার সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাচ্চারা যেন খুশি হয়।” তার আশা, এই সামান্য আয়োজন অন্তত কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ভুলে থাকার সুযোগ করে দেবে।
গত দুই বছরের যুদ্ধের তুলনায় এবারের রমজান কিছুটা ভিন্ন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি পুরোপুরি।
মাইসুন বলেন, “পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়। সবাই জানে যুদ্ধ সত্যিই থামেনি; এখনো মাঝে মাঝে গোলাবর্ষণ চলছে। তবে আগের তীব্রতার তুলনায় পরিস্থিতি কম ভয়াবহ।”
গাজা শহরের বাসিন্দা ফেদা আইয়াদ বলেন, “পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের হারানোর পর আর কোনো আনন্দ নেই।” তবুও তাদের প্রত্যাশা—এই রমজান যেন স্থায়ী শান্তির বার্তা নিয়ে আসে এবং যুদ্ধ আর ফিরে না আসে।
মন্তব্য করুন