ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে সোজাপথে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেস্তে যাবে—হায় হায়! তাহলে কি কমপ্লিট সারেন্ডার করে ইবাদত করা, ইমান আনার কোনো মূল্য নেই? এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাইছে।”
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে তারা, যারা অতীতে বাংলাদেশকেই স্বীকার করেনি। “আমাদের কত মা-বোনকে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে—এই ইতিহাস আমরা ভুলিনি,” বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বর্তমান সরকারের প্রস্তাবের দুই বছর আগেই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। “সংস্কার বিএনপির সন্তান। অথচ এখন সরকার এটি নিয়ে বড় ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কারসাজি ও বেইমানির শিকার হয়েছে। “যেগুলোর সঙ্গে আমরা একমত নই, সেগুলোকেও সংস্কারের অংশ করা হয়েছে। তারপরও আমরা বৃহত্তর স্বার্থে রাজি হয়েছি,” বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সম্ভাব্য ভূমিধস বিজয় ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। “যারা নির্বাচন হবে কিনা বলে শঙ্কা তৈরি করছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে ভেতরে ভেতরে তাদের তিনটি আসনও নেই,” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনই বলে দেবে—বাংলাদেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক রাজনীতি থাকবে, না কি উগ্রপন্থার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা ভোটের জন্য অপেক্ষা করছি।”
মন্তব্য করুন