ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে পেশায় রাজনীতিবিদ দুই শতাংশেরও কম এবং ব্যবসায়ী প্রায় অর্ধেক—এমন তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং কেওয়াইসি (KYC) ড্যাশবোর্ড উন্মুক্ত করে সংস্থাটি এসব তথ্য তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
প্রার্থীদের সামগ্রিক চিত্র
টিআইবি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন। প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র এবং ৮৭ শতাংশ রাজনৈতিক দলের মনোনীত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩৬ শতাংশ প্রার্থী ইসলামী দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন। পেশাগত দিক থেকে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ প্রার্থী ব্যবসায়ী।
রাজনীতিকে পেশা দেখিয়েছেন খুব কম
টিআইবি জানায়, প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ রাজনীতিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বছরে এক কোটি টাকা আয় করেন—এমন প্রার্থী রয়েছেন ১২৪ জন। আর ১০০ কোটি টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদের মালিক প্রার্থী আছেন ১৩ জন।
কোটিপতি প্রার্থীর আধিক্য
প্রতিবেদনে কোটিপতি প্রার্থীদের দলভিত্তিক চিত্রও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির রয়েছেন ৭১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, জামায়াতের ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং এনসিপির ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ প্রার্থী।
এ ছাড়া একশ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৭ জন প্রার্থী।
মামলা ও ঋণের চিত্র
টিআইবি জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৫৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পাশাপাশি মোট প্রার্থীর প্রায় সাড়ে ২৫ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রার্থীদের সম্পদ, আয় ও মামলার তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।