তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে ধরনের নিপীড়ন দেখা গেছে, বর্তমানে একটি দলের মধ্যে একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও গুম-খুন চলবে কি না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, অতীতের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মতো আবারও যদি দেশে প্রহসনের নির্বাচন হয়, তাহলে ছাত্র-জনতা নিশ্চুপ থাকবে না। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে—তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে, নাকি বিতর্কিত পথে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১০ আসনের জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব মেনে নেবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং নিজেও তার প্রতি সমর্থন জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। তিনি দাবি করেন, ওই আন্দোলনে দুই হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ আহত হন। নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারও জন্য প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হবে, আবার কাউকে বঞ্চিত করা হবে—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।
জসীম উদ্দীন সরকার আরও বলেন, অতীতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ টাকা কেজি চাল বা ঘরে-ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি দল বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১০ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নাগরিক কমিটি গঠন করে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১০ আসন কমিটির পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন