সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “যারা জান্নাতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে, তারা মানুষকে প্রতারণা করছে। এটা শিরিকের শামিল।” তিনি বলেন, একাত্তরে কারা কী ভূমিকা রেখেছিল, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে এই সমাবেশের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বিএনপিসহ লাখো মানুষ নির্যাতিত, পঙ্গু ও নিঃস্ব হয়েছেন। ব্যালট ছিনতাই ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একসময় দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। বিএনপির রাজনীতি কারও দাসত্বের নয়। “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতেই বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে চায়।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে। চালু করা হবে কৃষি কার্ড। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পানির সংকট দূর করা হবে এবং নদী থেকে খাল কেটে পানি আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তরুণদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।
নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি বলেন, নারী সমাজ দেশের অর্ধেক শক্তি। গ্রামে গ্রামে দরিদ্র পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করা হবে।
বিদেশে বসে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং দেশের ভেতরে নানা চক্রান্ত চলছে দাবি করে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারে—এটা প্রমাণ হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতেই মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন নেতাকে সরে যেতে বলেন তারেক রহমান। এতে মাঠজুড়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ বিএনপির রাজনীতিতে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার এই মাঠে জনসভা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান একই মঞ্চে বক্তব্য দেন।
সমাবেশ ঘিরে সিলেট নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
বিএনপির নেতারা জানান, এই জনসভা থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা, কর্মসূচি ও দেশগঠনের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে।