রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দেশবাসীর উদ্দেশে এ আহ্বান জানাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে জাতি।”
তিনি বলেন, সাদা দলের লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এমন একটি দলের হাতে থাকা উচিত, যাদের অতীতে শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে।
অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে—জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কোনো শাসনব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। ফ্যাসিবাদী প্রবণতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচন এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে অসহিষ্ণুতা, নারীবিরোধী মনোভাব এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধেও সাদা দলের অবস্থান নীতিগতভাবে স্পষ্ট বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি দুটি—একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এই দুই চেতনার সম্মিলনেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাদা দল এমন উন্নয়ন দর্শনে বিশ্বাস করে, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামাজিক প্রয়োজনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে অধ্যাপক সালাম বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতি হতে হবে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। কোনো দেশি বা বিদেশি শক্তির ইচ্ছা নয়, জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।”
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩১ দফাভিত্তিক একটি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “I Have a Plan” শীর্ষক রাজনৈতিক রোডম্যাপ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনায় পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রেক্ষাপটে সাদা দল মনে করে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে অধ্যাপক সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সমাজে অবিশ্বাস ও সংঘাত বেড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের সহাবস্থানে বিশ্বাস করে, যা জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে সামাজিক সহনশীলতার ভিত্তি হিসেবে দেখার সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গুণ। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতি, সামাজিক ঐক্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অপরিহার্য বলে তিনি মত দেন।
শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “আসুন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বার্থে অভিজ্ঞ, পরিকল্পনাভিত্তিক ও জনগণনির্ভর নেতৃত্ব নির্বাচন করি।”
সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সাদা দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আলআমিনসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন