সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে তিস্তা অববাহিকায় বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নতুন করে তিস্তার বুকে যেন কোনো বিক্ষিপ্ত প্রকল্প গ্রহণ না করা হয়, সে বিষয়ে তিনি আগেও আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তা শাসন, খনন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, বিগত সময়ে বৈষম্যের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। “আমি রংপুরের সন্তান। ভবিষ্যতে বাজেটে রংপুর যেন কোনো বৈষম্যের শিকার না হয়, সে চেষ্টা করব,”—বলেন তিনি।
রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা—এই তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। এসব শূন্যপদ পূরণ এবং কিছু অনির্বাচিত প্রকল্প রংপুর বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রথম বৈঠক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনজীবন ও স্বাভাবিক চলাচল যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রংপুর সফরের প্রথম দিনে নিজ জেলা লালমনিরহাট-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী।
মন্তব্য করুন